মি. 'এ' ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন। তিনি নিজেকে জনগণের সেবক মনে করছেন। অন্যদিকে, মি. 'বি' একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি নিজেকে জনপ্রভু বলে মনে করেন। এ প্রসঙ্গে মি.. 'এ' বলেন, বাংলাদেশের আমলারা জনপ্রভু নয়; বরং জনগণের সেবক। কিন্তু নানা কারণে আজ তারা জনপ্রভুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কাজেই তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়বে।
আমলাতন্ত্রের অর্থই হলো আমলাদের শাসন। আমলাতন্ত্রের মূল ত্রুটি হলো আমলারা তাদের কাজকর্মের জন্য জনসাধারণের প্রতিনিধিদের নিকট দায়িত্বশীল থাকে না। অধ্যাপক মিল তাই আমলাতন্ত্রকে গণতন্ত্রবিরোধী বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমলারা যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে না থেকে কাজ করেন তাহলে আমলাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে না। গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে জনপ্রতিনিধিদের নিকট আমলাদের জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করতে হবে। আমলাতন্ত্রের রাজনৈতিক অধীনস্থতার অর্থ হলো আইনসভা, রাজনৈতিক শাসন কর্তৃত্ব, রাজনৈতিক দল ইত্যাদির নিয়ন্ত্রণ। সাধারণত আমলা নিয়োগের পদ্ধতি আইনসভা আইনের মাধ্যমে ঠিক করে নেয়। তবে সরাসরি নিয়োগ বা নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষমতা আইনসভার হাতে থাকলে আমলাদের নিয়ন্ত্রণ সহজসাধ্য হয়। রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের আর একটি মাধ্যম হলো সংসদীয় কমিটি গঠন। যেমন- হিসাব রক্ষাসংক্রান্ত কমিটি। তাছাড়া আইনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে আমলাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীন করা যায়। সাধারণত আইনের সাহায্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় আমলাদের
বিচার আইনগত নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়। এ্যালান বলের মতে, যেহেতু দুর্নীতি ও নৈপুণ্যের মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় হয় না সেজন্য আমলাদের বিচারের জন্য পৃথক আদালত থাকা বাঞ্ছনীয়। আমলাদের ওপর এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে আমলারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে এবং জনপ্রতিনিধিদের নিকট দায়িত্বশীল হবে। ফলে আমলাতন্ত্র অর্থবহ হয়ে উঠবে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?